অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে চান? দেখে নিন কিভাবে সম্ভব!

গত কয়েক বছর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন যা আমরা সবাই ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং হিসেবে জানি। মজার ব্যপার হচ্ছে ফ্রিলেন্সিং আর আউটসোর্সিং দুইটা আলাদা বিষয় কিন্তু আমরা বেশিরভাগ লোকেরাই এই দুইটাকে একই জিনিস হিসেবে জানি বা বিবেচনা করি। যাইহোক, অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করা কি আসলেই সম্ভব? যদি সম্ভব হয় তাহলে কিভাবে? অনলাইন থেকে আসলেই টাকা ইনকাম করা সম্ভব এবং সেটা অনেকভাবে হতে পারে, আর এই পোষ্টে আমি সে বিষয় নিয়ে একদম নতুনদের জন্য কিছু লেখার চেষ্টা করবো।অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে চান? দেখে নিন কিভাবে সম্ভব!

নতুনদের ক্ষেত্রে যে সমস্যা হয়, তা হচ্ছে তারা সঠিক গাইডলাইন, ট্রেনিং, মেন্টর, রিসোর্স আর টুল পায় না। সেই জন্য বেশিরভাগ নতুনরাই অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে পারে না। এছাড়া আমাদের দেশে কিছু তথাকথিত ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে যারা শুরুতেই নতুনদের ভুল পথে নিয়ে যায়।

চলুন দেখে নেওয়ার যাক অনলাইন থেকে কিভাবে আপনি টাকা উপার্জন করতে পারেন।

১. ফ্রিলেন্স রাইটার

আপনার যদি ব্যাসিক ইংলিশ জ্ঞান ভালো থাকে তাহলে আপনে ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে অনলাইন থেকে ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। অনলাইনে মূলত ব্লগ পোষ্ট, প্রোডাক্ট/সার্ভিস রিভিউ পোষ্ট, ইবুক, থিসিস, নিউজলেটার, প্রেস রিলেস, কপিরাইটিং এই ধরনের কাজ পাওয়া যায়। তবে আপনাকে যেকোন একটা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং সেই বিষয়ে খুটি-নাটি সব কিছু জানতে হবে। তাতে করে একদিকে যেমন দিন দিন আপনার দক্ষতা বাড়বে অন্যদিকে আপনি আপনার কাজের জন্য বেশি পারিশ্রমিক পাবেন। যেমন ধরেন, এখন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এবং আমাদের দেশে প্রোডাক্ট রিভিউ কন্টেন্ট এর অনেক চাহিদা রয়েছে, আপনি চাইলে প্রোডাক্ট রিভিউ কন্টেন্ট নিয়ে ভালোভাবে পড়াশুনা করতে পারেন বা কার কাছ থেকে বা কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আশা করা যায় তারপর আপনি অনলাইনে বা লোকাল মার্কেটে প্রোডাক্ট রিভিউ রাইটার হিসেবে প্রতি মাসে ভালো পরিমান আয় করতে পারবেন।

ফ্রিলেন্স রাইটাররা প্রতিমাসে কেমন আয় করে? এইটা আসলে নির্ভর করে উনি কোন ধরনের রাইটার হিসেবে কাজ করছেন, ওনার দক্ষতা কেমন আর উনি প্রতিদিন কত ঘন্টা কাজ করছেন? সাধারণত একজন ফ্রিলেন্স রাইটার প্রতিদিন ৩-৬ ঘন্টা কাজ করে প্রতি মাসে ৫০০-২০০০ ডলার বা তারো বেশি আয় করে থাকেন।

২. গ্রাফিক ডিজাইন

অনলাইন মার্কেটপ্লেসে গ্রাফিক ডিজান অনেক প্রচলিত একটি পেশা যা থেকে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা প্রতি মাসে ভালো পরিমাণ আয় করে থাকেন। একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার খুব সহজেই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ পেয়ে যান এবং মাসে ভালো পরিমান আয় করতে পারেন। গ্রাফিক ডিজাইনের মধ্যে লগো ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ভেক্টর ডিজাইন, ইনফোগ্রাফিক ডিজাইন, বিসনেস কার্ড ডিজাইন, পেড/মেমো ডিজাইন এর কাজ সব-সময় পাওয়া যায়। সুতরাং আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই আগে ভালো করে গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে হবে।

৩. পেইড সার্ভে

এটি অনেক পুরাতন এবং জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে পারেন। এইটা আসলে সহজ একটি পন্থা যা যে কেউই করতে পারবে যদি তাদের ব্যাসিক ইংলিশ আর নেট ব্রাইজিং সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান থাকে। এইখানে মূলত আপনাকে সার্ভে সাইটগুলাতে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে এবং সার্ভে তে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রতিটা সাকসেশফুল সার্ভের জন্য কোম্পানিভেদে আপনি ১-৫ডলার পেতে পারেন। এইভাবে মাসে যদি আপনি ১০০টা সার্ভেতে অংশগ্রহণ করতে পারেন তাহলে আপনি মাসে ১০০-৫০০ ডলার আয় করতে পারেন।

তবে বেশিরভাগ অনলাইন সার্ভেগুলা ফ্রট হয়ে থাকে তাই আপনাকে কিছু জনপ্রিয় এবং প্রতিষ্টিত সার্ভে সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। আপনি এই সাইটগুলাতে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। Toluna, Vivatic, Paid Surveys at Home, The Opinion Panel, Hiving, Panelbase, Mindmover, NewVista, Swagbucks ইত্যাদি।

৪. ডেভেলোপার/প্রোগ্রামার

অনলাইন মার্কেটে ওয়েব ডিজাইনার, ডেভেলোপার, সফটয়্যার ডিজাইনার, ডেভেলোপারদের অনেক চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি এই কাজগুলো জেনে থাকেন বা লোকালি কোথাও কাজ করে থাকেন তাহলে আপনি পার্ট-টাইম অনলাইনেও এই কাজ গুলো করতে পারেন। এই ধরনের কাজের জন্য অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। আর যদি নতুন হিসেবে শুরু করতে চান তাহলে আগে ভালোভাবে কাজ শিখে নিতে হবে অন্যথায় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়া এত সহজ হবে না।

৫. কাষ্টোমার সার্ভিস

এই ক্যাটাগরিতে অনেক ধরনের কাজ রয়েছে এবং অনলাইনে এই কাজের অনেক চাহিদাও রয়েছে। নতুনদের জন্য এই ক্যাটাগরিতে বেশ ভালো কিছু অপশন রয়েছে যেমন ওয়েব রিসার্চ, ডাটা এন্ট্রি, ইমেল সাপোর্ট ইত্যাদি। ওয়েব রিসার্চ এর কাজ অনেক সহজ, সহজেই পাওয়া যায় এবং আপনি যদি নেট ব্রাউজিং ও ইংলিশ ভালো-ভাবে জানেন তাহলেই এই কাজ করতে পারেন। তবে হ্যাঁ, এই কাজের পারিশ্রমিক কিছুটা কম।

৬. ইন্টারনেট মার্কেটিং

এস.ই.ও, এস.এম.এম, এস.ই.এম. ইত্যাদি ইন্টারনেট মার্কেটিং এর মধ্যে পড়ে। এর মধ্যে এস.এম.এম. মানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর টুক-টাক কাজ শিখেও আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ফিক্সড প্রাইস এর জব বা আওয়ারলি জব পেতে পারেন। তাছাড়া এস.ই.ও. এর অনেক জব পাওয়া যায় একদম ব্যাসিক লেভেল এর।

৭. ইমেইল মার্কেটিং

বর্তমানে আমাদের দেশে এটিও একটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্রফেশন। ইমেল মার্কেটিং এ আপনি আওয়ারলি বা ফিক্সড প্রাইস এর জব পাবেন। তবে হ্যাঁ, আপনাকে এই কাজ করার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে শিখে নিতে হবে অথবা কোন স্বনামধন্য ট্রেনিংসেন্টার থেকে ট্রেনিং নিতে হবে। ইমেইল মার্কেটিং এর মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে ইমেল টেমপ্লেট ডিজাইন করা, নিউজলেটার লেখা/সাজানো, ইমেইল পাঠানো ইত্যাদি।

৮. ব্লগিং

অপ্রিয় সত্য হলেও বলতে হচ্ছে আমাদের দেশে ব্লগিং আর ব্লগার এর সংজ্ঞাটাই পাল্টে গেছে। ব্লগিং করে উন্নত দেশের এমনকি আমাদের পাশের দেশে ভারত আর পাকিস্তানের লোকজনও ভালো পরিমান উপার্জন করছে। ব্লগিং মূলত নতুনদের জন্য তেমন কার্যকরী নয় কারন এটি একটি লং টাইম প্রসেস এবং ব্লগিং থেকে উপার্জন করতে হলে আপনাকে অনেক কিছু জানতে হবে অথবা টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ব্লগিং এর মাধ্যমে মূলত ইঙ্কামসোর্স হলো গুগল এডসেন্স, বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস আর সিপিসি সাইট। এছাড়া আপনি স্পনসর পোষ্ট, পেইড রিভিউ, এড স্পেস বিক্রি, পেইড গেষ্ট পোষ্টিং এর মাধ্যমে আপনার ব্লগ থেকে উপার্জন করতে পারেন।

৯. আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আমাদের দেশে বর্তমানে আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইনে আয় করার জন্য একটি পরিচিত শব্দ এবং রিসেন্টিলি অনেকেই আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও আসলে অনেকটা ব্লগিং এর মত, মানে এইখানে আপনে সফল হতে হলে আপনাকে অনেকগুলো বিষয় যেমন কন্টেন্ট রাইটিং, এস.ই.ও. ব্লগ ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস এর ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি জানতে হবে। অন্যথায় আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে এবং অন্যের উপরে ভরসা করে থাকতে হবে।

১০. সব কিছু বেচে দিন 😉

হ্যাঁ, আপনার পুরাতন অব্যবহ্রত জিনিসপত্র আপনি অনলাইন মার্কেটে বেচে দিতে পারেন। এতে করে সাময়িক আপনি কিছু টাকা উপার্জন করতে পারেন। এছাড়া অনেকের হয়তবা ছবি আঁকা বা হ্যান্ডিক্রাফট বানানোর শখ থাকতে পারে, সুতরাং আপনি চাইলে সেইগুলাও অনলাইনে বিক্রয় করতে পারেন।

১১. ইউটিউব থেকে উপার্জন

আজকাল আমাদের দেশে অনেকেই ইউটিউব থেকে প্রতিমাসে খুব ভালো পরিমান টাকা উপার্জন করছে। এইটা আসলে নতুনদের জন্য অনেক কার্যকরী একটি উপায় অনলাইন থেকে টাকা আয় করার। আপনাকে শুধু অল্পকিছু বিষয়ে ধারণা নিতে হবে ও পড়াশুনা করতে হবে ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য। আপনি যেকোন বিষয়ের উপরে টিউটোরিয়াল টাইপ ভিডিও তৈরী করতে পারেন এবং সেইগুলা ইউটিউবে শেয়ার করতে পারেন। তারপর গুগলে এডসেন্স এর জন্য আবেদন করুন আর এডসেন্স দিয়ে আপনার ইউটিব চ্যানেল কে মনিটাইজ করুন আর টাকা উপার্জন করুন।

১২. ডোমেইন কেনা-বেচা

ডোমেইন কেনা-বেচাও অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করার সহজ একটি রাস্তা। এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু পরিমান টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এইখানে আপনাকে কিছু ডোমেইন কিনে রাখতে হবে এবং সেগুলা ডোমেইন-কেনা-বেচার সাইটে হোস্ট করে রাখতে হবে। তারপর আপনি ঐ ডোমেইন গুলা বেশি দামে বিক্রয় করে আর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন শো করে টাকা আয় করতে পারবেন। এই ব্যাপারে বিস্তারিত পাবেন রুবেল ভাইয়ের এই পোষ্টে

কোথায় কাজ করবেন? (কোন মার্কেটপ্লেসে)

অনলাইনে কাজ করার জন্য অনেক জনপ্রিয় আর বিশ্বস্ত অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি মার্কেটপ্লেস হচ্ছে আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্স, পিপল পার আওয়ার, গুরু, এস.ই.ও. ক্লার্ক, সোর্স ওয়েভ, টপটাল, ক্রেইগলিষ্ট, ৯৯ডিজাইন্স, ফিভার, গেটএকোডার, এনাভেটো স্টুডিও ইত্যাদি।

তবে আপনি যে মার্কেটপ্লেসেই কাজ করতে চান না কেনো তার জন্য আপনাকে আগে ঐ মার্কেটপ্লেসে সুন্দর করে একটি প্রোফাই তৈরী করতে হবে। প্রোফাইলে আপনার সব তথ্য, প্রফেশনাল ছবি, আপনার কাজের পোর্টফোলিও ইত্যাদি দিতে হবে। তাহলেই আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে যে প্রথমে কাজ পেতে একটু সময় বেশি লাগতে পারে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাই হয় কারণ আপনার প্রোফাইল নতুন এবং ঐ মার্কেটপ্লেসে আপনার কাজের কোন রেকর্ড বা রেটিং নাই। তাই হতাশ না হয়ে ঠিক মত প্রোফাইল সাজান আর আপনি যে কাজ করতে পারবেন শুধু সেই কাজেই বিড করুন।

বিড করার আগে অবশ্যই কাজের বিবরণ ভালো করে দেখে নিবেন কারন এমন কোন কাজে বিড করবেন না যেটা আপনি করতে পারবেন না। অন্যথায় দেখা গেলো যে আপনি কাজটা পেলেন কিন্তু ঠিকভাবে না করার কারনে বায়ার আপনাকে নেগেটিভ রিভিউ দিবে। এতে করে ভবিষ্যতে আপনার কাজ পেতে অসুবিধে হবে।

পেমেন্ট পাবেন কিভাবে?

এইটা একটা কমন প্রশ্ন যা ৯৯.৯৯% নতুনরা করে থাকে এমনকি এমন লোকেরাও এই প্রশ্ন করে যারা এখনো কোন কাজ যানে না বা কোন মার্কেটপ্লেসে তাদের প্রোফাইলও নাই। শুধু ঠিক করেছে যে অনলাইনে কাজ করবে, কি কাজ করবে, কোথায় করবে কোন কিছুই ঠিক নাই কিন্তু আগেই জিজ্ঞেস করে বসে ভাই টাকা পাবো কিভাবে? 😀

যাই হোক, বেশিরভাগ অনলাইন মার্কেটপ্লেসেরই (যেমন আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্স, পিপল পার আওয়ার, গুরু ইত্যাদি) ব্যংক ট্রান্সপার সিস্টেম রয়েছে। অর্থাৎ আপনি যে টাকা আয় করবেন সেটা বাংলাদেশের যেকোন ব্যংক একাউন্ট এ সরাসরি পাঠাতে পারবেন। তার মানে বাংলাদেশের যেকোন একটা ব্যাংকে আপনার একাউন্ট থাকলেই আপনি আপনার পারিশ্রমিক সেই একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে মার্কেটপ্লেস এবং ব্যাংকভেদে ৩-৭ দিন সময় লাগতে পারে।

ইদানিং বাংলাদেশে আরেকটা জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে পেওনিয়ার। অনেক মার্কেটপ্লেস এখন পেওনিয়ার একসেপ্ট করে, সুতরাং আপনি সহজেই পেওনিয়ার কার্ডের মাধ্যমে আপনার ডলার বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারবেন এবং সেই ডলার বাংলাদেশের যেকোন মাষ্টারকার্ড সাপোর্টেড এটিএম বুথ থেকে তুলতে পারবেন অথবা সরাসরি আপনার বাংলাদেশী ব্যাংক একাউন্টেও ট্রান্সপার করতে পারবেন। পেওনিয়ার কার্ড আপনি ফ্রিতেই পেতে পারেন এবং সাথে ২৫ ডলার ব্যালেন্স ফ্রি (কিভাবে পেওনিয়ার মাষ্টার কার্ড ও ২৫ ডলার ফ্রি পাবেন সেটা এইখানে দেখুন)। এছাড়া এই পেওনিয়ার কার্ডের আরো কিছু সুবিধা আছে যেমন আপনি চাইলেই যেকোন অনলাইন মার্কেট থেকে এই কার্ড ব্যবহার করে কেনা-কাটা করতে পারবেন।

এছাড়া পেপাল হচ্ছে আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম যার মাধ্যমে আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে পেমেন্ট পেতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে পেপাল অনুমোদিত নয় তাই যেইসব মার্কেটপ্লেস শুধু মাত্র পেপালেই পেমেন্ট করে সেই সব মার্কেটপ্লেস এড়িয়ে চলাই ভালো। আরো কিছু জনপ্রিয় পেমেন্টের মাধ্যম হচ্ছে স্ক্রিল, পেয়জা, নেটলার ইত্যাদি।

শেষ কথা

বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। এই কথার বলার অর্থ হলো সব কাজ সবার জন্য নয়। যদি তাই হতো তাহলে মানুষ এত কষ্ট করে চাকুরি বা অন্য কোন কাজ করতো না, ঘরে বসে অনলাইনে টাকা কামাতো আর বিন্দাস জীবন যাপন করতো। সুতরাং অনলাইন যদি কাজ করতে চান তার আগে খুঁটিনাটি সব বিষয় (ভালো-খারাপ) জেনে নিন। এমন কাজ বেছে নিন যেটা আসলেই আপনাকে দিয়ে সম্ভব। অন্যথায় অনলাইনের পিছনে ছুটে সময় আর টাকা নষ্ট না করে অন্যদিকে চেষ্টা করুন।

সবাই ভালো থাকুন, আশা করি কিছুদিনের মধ্যে আরো কিছু লেখা নিয়ে হাজির হবো।

আর হ্যাঁ, নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না যে লেখাটি কেমন হয়েছে।

আর যদি ভালোই লেগে থাকে তাহলে আশা করি আপনার সোশ্যাল প্রোফাইলে লেখাটি শেয়ার করবেন। 🙂

Comments(9)
  1. Muhammad Kausarul Alam March 16, 2016
    • Fakharuddin Manik March 16, 2016
  2. habib March 16, 2016
    • Fakharuddin Manik March 19, 2016
  3. Shibam Kar March 17, 2016
    • Fakharuddin Manik March 19, 2016
  4. mosharrof hossain March 22, 2016
  5. Tushar April 3, 2016
  6. Ashraf June 16, 2016

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CommentLuv badge